লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা

0
লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বাড়িঘর ধ্বংস বন্ধের ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। যে কারণে চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দুই পক্ষই অব্যাহত রেখেছে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

ইসরায়েল আগেই জানিয়েছিল, ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ চালিয়ে যাবে তারা। সেই অবস্থান থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে গ্রাম ধ্বংসের অভিযান চালাচ্ছে। বিস্ফোরক, বুলডোজার ও গোলাবর্ষণের মাধ্যমে এসব এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুরুতে এই পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালানোর কথা বলেছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গতকাল। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানান, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে লেবাননের আরো গভীরে পাল্টা আঘাত হানা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে সংঘর্ষ থামেনি। বরং পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা বাড়ছে, যা বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।

এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয়জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণ লেবাননের ওয়াদি আল-হুজাইর এলাকায় দুইজন, টাউলিনে দুইজন এবং স্রিফা ও ইয়াতের এলাকায় একজন নিহত হন।

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, গত ২৯ মার্চ তাদের একটি ঘাঁটিতে হামলায় আহত হওয়া এক ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জাতিসংঘ বলেছে, ওই হামলায় তিনি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় নিহত হন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল শহরে তারা ছয়জনকে হত্যা করেছে, যারা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্য। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিহতদের তথ্য এবং ইসরায়েলের দাবি করা নিহতদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন, যেখানে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে ইসরায়েলি বাহিনীকে।  সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here