কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ছিলেন উদযাপনের কেন্দ্রে। প্রতিটি জনসমক্ষে তিনি বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা বহন করতেন এবং পেতেন দাঁড়িয়ে অভিবাদন। তার দ্বারা অনভিজ্ঞ কোচ লিওনেল স্কালোনিকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও অনেকে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেন।
তবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া আর্জেন্টিনার সামনে এখন ভিন্ন বাস্তবতা। তাপিয়া বর্তমানে একাধিক বিতর্ক ও সংকটের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্নীতির তদন্ত, ঘরোয়া লিগে অজনপ্রিয় পরিবর্তন এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন; এসব কারণে তাপিয়া ও এএফএ’র বিরুদ্ধে জনমত ক্রমেই নেতিবাচক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সঙ্গে ক্লাব মালিকানা কাঠামো নিয়ে তার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত মার্চে মিলে সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দুই থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই দিন বুয়েনস আইরেসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে সম্মাননা নিতে গিয়ে দর্শকদের বিদ্রূপের শিকার হন তিনি।
এদিকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এই বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জাতীয় দল ও ক্লাবে মেসির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সতীর্থ মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল বলেন, ‘আমরা ফুটবলার, আমরা খেলতে এসেছি। রাজনীতি নিয়ে আমরা জড়াই না।’
একসময় তাপিয়া নিয়মিত মেসির সঙ্গে ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলেও সম্প্রতি তা কমে গেছে, যা তাদের সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মার্চে প্রীতি ম্যাচ খেলে মেসি কোনো বক্তব্য না দিয়েই বুয়েনস আইরেস ছাড়েন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলে দেশের ক্লাবগুলোকে বেসরকারিকরণের পক্ষে থাকলেও এএফএ তার বিরোধিতা করে আসছে। এই দ্বন্দ্বই তাপিয়া ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মূল কারণ।
যদিও বেশিরভাগ ক্লাব কর্মকর্তার সমর্থন তাপিয়ার পক্ষে রয়েছে, তবে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্টেডিয়ামগুলোতে তাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত কটূক্তি শোনা যাচ্ছে। কিছু ক্লাব, যেমন রিভার প্লেট এবং এসতুদিয়ানতেস দে লা প্লাতা এএফএ’র নির্বাহী কমিটি থেকেও সরে গেছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, প্রশাসনিক সংকট সবসময় মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে না। ইতালি ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও বিশ্বকাপ জিতেছিল।
তবে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইউরোপের শক্তিশালী দলের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ; ইন্দোনেশিয়া, পুয়ের্তো রিকো, অ্যাঙ্গোলা, মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে দলটি। জুনে তাদের শেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ হবে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, যারা বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি।
তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দে পল। তিনি বলেন, ‘একবার জেতা কঠিন, আর টানা দু’বার জেতা আরও কঠিন। আমরা যদি শিরোপা ধরে রাখতে চাই, তাহলে পুরো দেশকে একসঙ্গে থাকতে হবে।’

