হেগের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

0
হেগের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে জানায়, মেয়র ও প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দুতার্তে যে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন, তাতে তার সংশ্লিষ্টতার ‘যথেষ্ট ভিত্তি’ রয়েছে। 

৮১ বছর বয়সী এই সাবেক নেতা বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির হেফাজতে রয়েছেন। গত বছর তাকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেফতার করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

আদালতের ৫০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে দুতার্তে কথিত অপরাধীদের ‘নির্মূল’ করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতি তৈরি এবং বাস্তবায়ন করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী, দুতার্তের নির্দেশে পুলিশ ও হিট স্কোয়াড সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে বা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালায়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাক-বিচার শুনানিতে প্রসিকিউটররা উল্লেখ করেছিলেন, কিছু ক্ষেত্রে এই হত্যাকাণ্ড এক ধরনের বিকৃত প্রতিযোগিতার পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দুতার্তের শাসনামলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। সরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

দুতার্তের প্রধান আইনজীবী নিক কফম্যান আদালতের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আত্মস্বীকৃত খুনিদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই রায়কে বড় জয় হিসেবে দেখছে। ২০১৭ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত কিয়ান দেলোস সান্তোসের চাচা র‍্যান্ডি দেলোস সান্তোস বলেন, এটি সেইসব নামহীন ও কণ্ঠহীন ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি বড় মাইলফলক, যাদের গল্প এতদিন পুলিশি রিপোর্টের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল। 

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

২০১৮ সালে যখন আইসিসি এই তদন্ত শুরু করে, তখন দায়বদ্ধতা এড়াতে ফিলিপাইনকে এই আদালত থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দুতার্তে। তবে সম্প্রতি আপিল বিভাগ তার আইনজীবীদের সেই দাবি খারিজ করে দেয় যে আদালতের কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝখানে প্রক্রিয়াটি কিছুটা থমকে গিয়েছিল, তবে আদালত তাকে বিচারের জন্য ফিট বলে ঘোষণা করেছেন। 

এখন কেবল বিচার শুরুর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার অপেক্ষা। দুতার্তের এই বিচার বিশ্বজুড়ে দায়মুক্তি অবসানের লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here