আরব উপসাগরে জব্দ হওয়া একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। ট্রাম্পের দাবির জবাবে বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওই জাহাজকে ‘চীনের উপহার’ বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তারা একটি ইরানি পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি আটক করেছে। জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে ওয়াশিংটনের দাবি। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তারা ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, জাহাজটির ভেতরে এমন কিছু ছিল যা ‘ভালো নয়’ এবং সেটি হয়তো চীনের কাছ থেকে ইরানের জন্য ‘উপহার’ হতে পারে। এই মন্তব্যের পর শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন অভিযোগটি নাকচ করে বলেন, প্রমাণবিহীন এমন অভিযোগ ও যোগসূত্র আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ বা তা ব্যাহত করা উচিত নয়।
মার্কিন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘তৌসকা’ নামের ওই জাহাজে এমন কিছু দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য থাকতে পারে, যা বেসামরিক ও সামরিক—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার সম্ভব। রবিবার জাহাজটি আটক করার পর থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

