যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূতদের একজন চান, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে সুযোগ দিক ফিফা। ফিনান্সিয়াল টাইমস বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে রয়টার্সের অনুরোধে হোয়াইটহাউজ, ফিফা, ইতালি ও ইরানের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যাপারে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা পোপের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যাবহার করেন ট্রাম্প। এতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ফিনান্সিয়াল টাইমস নিজেদের প্রতিবেদনে বলেছে, মেলোনির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি বলেছেন, তিনি বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে নেওয়ার জন্য ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে বলেছেন।
ইতালিতে জন্ম নেওয়া জাম্পোল্লি কাছে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ‘আজ্জুরিদের’ অংশ নেওয়া হবে স্বপ্নের মতো। চারবার বিশ্বকাপ জেতায় টুর্নামেন্টে ইতালিকে যুক্ত করা তার কাছে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। এবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে স্বপ্ন ভেঙেছে তাদের।
ইরান টানা চতুর্থবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে। তবে দেশটিতে মার্কিন ও ইসরায়েলী বাহিনীর যৌথ হামলার পর ইরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশ নিজেদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে অনুরোধ জানায়।
গত মাসে তুরস্কে ইরানের একটি অনুশীলন ক্যাম্প পরিদর্শন করে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো বলেন, সূচি অনুযায়ী সব ম্যাচ আয়োজন করা হবে। বিশ্বকাপ নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা বলেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ।
তিনি বলেন, ‘আমরা তৈরি হচ্ছি এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমরা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। এখন পর্যন্ত, জাতীয় দলের জন্য সিদ্ধান্ত হলো বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া।’
শেষ পর্যন্ত ইরান সরে গেলে তাদের জায়গায় কোন দল সুযোগ পাবে, তা ঠিক করার ভার ফিফার। বিশ্বকাপের নিয়মানুযায়ী শূন্যস্থান পূরণ করতে যে দলকে ডাকার স্বাধীনতা তাদের আছে। তেমন কিছু হলে এএফসি জোরাল চেষ্টা করবে এশিয়ার কোনো দলকে নেওয়ার জন্য। গত নভেম্বরে ইরাকের বিপক্ষে বাছাইয়ের প্লে-অফে হেরে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে তাদের পছন্দ।
ফুটবল ঐতিহ্যে ইতালির ধারে কাছে নেই সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৯০ সালে একবারই খেলেছে তারা মূল পর্বে, সেবার হেরেছে তিন ম্যাচেই। উত্তর আমেরিকার তিন দেশে আগামী ১১ জুন শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর।

