পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সফররত বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া যমজ শহরের (ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি) অন্যান্য রুট জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ‘রেড জোন’ এলাকাটি এখনও সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য সিলগালা অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার যমজ শহরের অন্যান্য রুট খুলে দেয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা বাসিন্দাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে।
বুধবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস আকস্মিকভাবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে এবং ইরানের প্রতিনিধি দলও আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করছে। এর ফলে বলা যায়, ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিদেশি প্রতিনিধি ও অগ্রগামী দলগুলোর আগমন নির্বিঘ্ন করতে গত কয়েকদিন ধরে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে বাজারগুলো ছিল জনশূন্য, সরকারি কর্মকর্তারা বাড়ি থেকে কাজ করেছেন এবং স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিয়েছে। বিশাল এই রেড জোন এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে সরকারি ভবন ও সচিবালয় অবস্থিত এই রেড জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার রাখা হয়েছে। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।
গত রবিবার থেকে রেড জোনে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কেবল জরুরি প্রয়োজনে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কিছু নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আর বাকিদের বাড়ি থেকে কাজ করার পূর্ববর্তী নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
তবে বিদেশি প্রতিনিধি দল আসার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়ায় পুলিশ মোতায়েনের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘ডন’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি এখন ‘স্বাভাবিক’।
রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনালের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত কেবল ‘চুঙ্গি নম্বর ২৬’ টার্মিনালটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডিতে পেশোয়ার রোডের বাস স্ট্যান্ড পরিষেবাও একদিন আগে চালু করা হয়েছে।অন্যদিকে, পীরওয়াধাই এবং ফয়জাবাদ বাস স্ট্যান্ডগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে এবং পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল এখনো শুরু হয়নি।
সূত্র : ডন।

