পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ ইসলামীর মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের মিশ্র সংকেতগুলো বিভ্রান্তিকর নয়, বরং সুপরিকল্পিত।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘ইরান মূলত এটি খোলার লক্ষ্যেই বন্ধ করেছে; এটি আলোচনার একটি কৌশল মাত্র।’
ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দের বিষয়ে ইসলামী এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেন, তেহরান পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়ন করেছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, আমেরিকানরাই মূলত তাদের সম্মান রক্ষার জন্য কোনো একটি উপায় খুঁজছে এবং ইরানি জাহাজ জব্দ করা সেই প্রচেষ্টারই অংশ।’
তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকা-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে আইআরজিসির প্রতিশোধমূলক হামলার খবরগুলো এটাই নির্দেশ করে যে, ইরান পিছু হটছে না।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন এই যুদ্ধ শুরু করেছিল, তখন তাদের কোনো স্পষ্ট কৌশল ছিল না। আমি এই আলোচনা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নই। যদি কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হয়, তবে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।’
উল্লেখ্য-রবিবার (১৯ এপ্রিল) ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। সতর্কতা আমলে না নেওয়ায় গুলি করে জাহাজটি জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সূত্র : আল-জাজিরা।

