ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়, বরং এটি একটি সভ্যতার লড়াই, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পাশে রয়েছে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই–এর ইসরায়েল সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে এমন একটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যাকে তিনি ইরানের ‘মহা স্বৈরাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইরান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিচ্ছে, ইসরায়েলকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সভ্যতাকেও দুর্বল করতে চায়।
নেতানিয়াহু বলেন, এই যুদ্ধে ইসরায়েল বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংঘাত এখনও শেষ হয়নি। তার কথায়, আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি, কিন্তু এটি এখনো শেষ নয়। যেকোনো মুহূর্তে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি আলি হাসেম জানান, ভবিষ্যতে দুই দেশ ইসলামাবাদে গিয়ে একটি সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামো নিয়ে কাজ করতে পারে—এমন ধারণা শোনা গেলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড লাইন’-এর কথা বারবার উল্লেখ করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে হস্তান্তর, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা। তবে এসব ইস্যু ইরানের কাছেও তাদের নিজস্ব ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব জটিল বিষয়ে সমাধান সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমঝোতার সময়সীমা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে—আগে যেখানে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের কথা শোনা গিয়েছিল, এখন সেখানে ছয় মাসের কথাও উঠে আসছে। কিন্তু এর ফলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে কি না, জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়া হবে কি না, কিংবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরান–সংক্রান্ত ফাইল বন্ধ হবে কি না—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

