পাকিস্তানে ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, বৈঠকের এজেন্ডা কী?

0
পাকিস্তানে ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, বৈঠকের এজেন্ডা কী?

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আলোচক দল পাকিস্তানে গিয়ে ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনায় যুক্ত হবে।

তবে এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে, তারা ইসলামাবাদে পুনরায় আলোচনায় বসতে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না। তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি সূত্রগুলো এর আগে সিএনএন-কে জানিয়েছে, একটি ইরানি দল মঙ্গলবার পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি সত্যিই পাকিস্তানে আলোচনায় বসে, তবে আগের দফার আলোচনায় অনিষ্পন্ন থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যু আবার আলোচনার টেবিলে আসবে। সম্ভাব্য যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তা হলো:

ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর
সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যুগুলোর একটি হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে দাবি করেন, ইরান তাদের এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্রুত এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিষয়টি একেবারেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। আলোচনায় একটি প্রস্তাব উঠেছে—এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে ইরানের আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা হতে পারে। ইরান জানিয়েছে, তারা ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ ছাড় এবং ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের সময়সীমা
আরেকটি বড় বিষয় হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কতদিন বন্ধ থাকবে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মসূচি বন্ধে রাজি হয়েছে। কিন্তু একজন ইরানি কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ইরান কখনোই নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে রাখা কোনো শর্ত মানবে না। গত সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়। এর জবাবে ইরান পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ প্রণালি খোলা
এর মধ্যেই রয়েছে হরমুজ প্রণালি—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার ইরান ঘোষণা দেয়, প্রায় দুই মাস কার্যত বন্ধ থাকার পর তারা এই প্রধান জলপথ পুনরায় খুলে দেবে, এতে বিশ্ববাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ চলবে। এর জবাবে ইরান আবারও নৌ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। রোববার পর্যন্ত পাওয়া সামুদ্রিক যান চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার পার হয়নি।

সামগ্রিক চিত্র
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, আটকে থাকা সম্পদ এবং জ্বালানি পরিবহন রুট—সবকিছুই বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। আলোচনা শুরু হলেও এই গভীর মতভেদ কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—উভয়ই এখনো অনিশ্চিত। সূত্র : সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here