অসময়ে তিস্তার ভাঙন, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

0
অসময়ে তিস্তার ভাঙন, হুমকির মুখে ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়ার ইউনিয়নের উজানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শতাধিক একর ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে কাপাসিয়ার ভোরের পাখি গ্রামে অসময়ে নদী ভাঙনের কারণে চরের মানুষজন উঠতি ফসলি জমি নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। ভাঙনের মুখে পড়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়টি।

জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে প্রতিবছর গড়ে ৪৫০ বসতভিটা, ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সে মোতাবেক গত ৫ বছরে আড়াই হাজার বসতভিটা, এক হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পলি জমে নদী ভরে গিয়ে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রুপ নিয়েছে। অসময়ে যেভাবে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে কখন তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হবে তা নিয়ে দিশেহারা চরবাসি। এসব চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা কমপক্ষে ৫ হতে ৭ বার ভাঙনের শিকার হয়েছে। প্রায় ১ যুগ ধরে সারা বছর নদী ভাঙন চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সরকারি ভাবে ভাঙন রোধে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাঙন কবলিত পরিবারের জন্য ত্রান বিতরণ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।

হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর গ্রামের জারিফুল মিয়া বলেন, বর্তমানে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নামকাওয়াস্তে সরকারি ভাবে ভাঙন রোধে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না।

হরিপুরের কাশিম বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ.ব.ম আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, অসময়ে যেভাবে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে, এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরবাসী। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোনো দিন দূর হবে না।  

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভাব হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করার দাবি তার।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, পানি কমলে উজানে আর পানি বাড়লে ভাটিতে ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে উজানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পরেছে।

কাপাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভাব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখি করলে নদী ভাঙন কমে যাবে।

তিনি বলেন, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন কোন কাজে আসছে না। চরের মানুষের হা-হাকার দুর করতে হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের ওপর মহলের নিকট জোর দাবি জানান।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় জোন। ধান, গম, ভূট্টা, বাদাম, কুমড়া, তরমুজ, আলু, মরিচ, পিয়াজসহ নানাবিধ ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে তিস্তার বালু চর। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন চরের কৃষকদের স্বপ্ন নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর ভাঙনে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করলে চরের কৃষকরা দারুনভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত। প্রতিবছর নদী ভাঙনে প্রায় ৪০০ বসতভিটা এবং ৩০০ হেক্টর জমি, রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে থাকে। ভাঙনের বিষয়ে সবসময় তথ্য পাঠানো হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here