কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় অঙ্গীকার অনুযায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত কিছু প্রকল্প প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
তিনি বলেন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পটি ঠিকাদার নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হচ্ছে।
মাতারবাড়ি এলাকায় এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে সরকার বলে জানান তিনি। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন।
জ্বালানি মজুত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কয়লা খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা তদারকি করছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী সমুদ্রে স্থাপিত এসপিএম বয়া জাহাজ পরিদর্শন করেন। পরে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ও প্রস্তাবিত এলএনজি-এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের স্থান ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

