মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানী সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানীখাতের সম্ভবনা নিয়ে রংপুরে ‘সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানী রুপান্তর’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা হয়েছে। শুক্রবার ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের আয়োজনে শুক্রবার নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তেল সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, পরিবহনগুলো চলাচল করতে পারছে না। বোরো মৌসুমে দেশে ১২ লাখ ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের জন্য ১০ লাখ টন জ্বালানী তেলের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হওয়ায় ফসল উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী তেল সংকটের কারণে শিল্প কলকারখানায় স্থবিরতা তৈরী হয়েছে। এ সংকট উত্তোরণে বাংলাদেশে ছাদ ভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎ দেশের ৪ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার পরিবার ব্যবহার করে। এই পরিবারগুলোর শতকরা ৪১ ভাগ কমপক্ষে এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারে। এতে করে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বিষ্ময়করভাবে ১৬ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। যা বার্ষিক ২৬ হাজার ৫১৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এতে করে তেল আমদানী কমে যাওয়ায় বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
এ ছাড়া দেশের ১ লাখ ২২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ১৩৭টি কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে কমপক্ষে ২ হাজার ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তাই চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ বিদ্যুতের দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করতে সোলার প্যানেল স্থাপনের উপর সরকারকে জোর দিতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, ফোরামের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাথে ডপসের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল রায়, ফোরাম অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য এসএম পিয়াল।

