ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা এলাকায় পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগে একটি পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ট্রাক জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করেন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজিল কবির। পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিদর্শক মোঃ রাখিবুল হাসানের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে পিপলস পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি লিমিটেড, মাদলা এলাকায় সরেজমিনে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও ভরাট কার্যক্রম চলছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মোঃ ফারুক হোসেন (জুনিয়র অফিসার)কে ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড (তাৎক্ষণিক আদায়) এবং ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে শ্রমিক মোঃ উসমান গণি কে ৭ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৫টি ট্রাক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজিল কবির বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার দায়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও একজনের ছয় মাস ও একজনের সাতদিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। খামার মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

