মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিমান ভ্রমণ মারাত্মকভাবে কমে গেলেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। বিকল্প রুট ও নতুন ফ্লাইট চালু করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ (১৭.৬ মিলিয়ন) যাত্রী চাঙ্গি বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৩ শতাংশ বেশি। আগের ১২ মাসে (মার্চ পর্যন্ত) চাঙ্গি বিমানবন্দরে মোট যাত্রী চলাচল দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪ লাখ। এটা গত বছরের তুলনায় ২.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১২ মাসের রেকর্ড।
তবে মার্চ মাসে সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যাত্রী চলাচল গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ কমেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল ও বিঘ্ন ঘটায় এই পতন ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনগুলো দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট, লন্ডন, মিউনিখ, মাসকাট, প্যারিস, পার্থ ও সিডনিসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু করা হয়।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ (সিএজি) জানিয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট ৯৫ হাজার ৩০০টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৪ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সত্ত্বেও উত্তর এশিয়া ও ইউরোপমুখী ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী ছিল, যার ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় আছে।
এই সময়ে চাঙ্গির সবচেয়ে বড় পাঁচটি বাজার ছিল চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে ভিয়েতনাম ও চীনে—যথাক্রমে ২৬.৫ শতাংশ ও ১৭.৭ শতাংশ। সবচেয়ে ব্যস্ত রুট ছিল কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, জাকার্তা, টোকিও ও হংকং। ১০টি ব্যস্ততম রুটের মধ্যে সাংহাই, তাইপেই ও টোকিও রুটে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট (এয়ার হাব ও কার্গো) লিম চিং কিয়াত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কিছুটা প্রভাব ফেললেও উত্তর এশিয়া ও ইউরোপের শক্তিশালী চাহিদার কারণে সামগ্রিক ভ্রমণ প্রবাহ ইতিবাচক ছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং বৈচিত্র্যময় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যাত্রীদের বিকল্প ভ্রমণ সুবিধা দিতে এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।
২০২৫ সালে চাঙ্গি বিমানবন্দরে রেকর্ড ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন, যা কোভিড পূর্ব ২০১৯ সালের আগের সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৮৩ লাখ যাত্রীর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আরও নতুন বিমান সংযোগ যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন স্কুট থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ে সপ্তাহে পাঁচটি এবং ইন্দোনেশিয়ার পালেমবাংয়ে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালু করেছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার জেটস্টার এয়ারওয়েজ বালির মাধ্যমে সানশাইন কোস্ট ও নিউক্যাসলে নতুন সেবা যুক্ত করেছে, যার ফলে চাঙ্গির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মোট সংযুক্ত শহরের সংখ্যা রেকর্ড নয়টিতে পৌঁছেছে।
এই সময়ের মধ্যে চাঙ্গি বিমানবন্দর আকাশপথে মোট ৫ লাখ ১৭ হাজার টন পণ্য পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৬ শতাংশ বেশি। শীর্ষ কার্গো বাজার ছিল চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও ভারত। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বিকল্প রুট, নতুন সংযোগ এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক বাজারের কারণে চাঙ্গি বিমানবন্দর যাত্রী ও কার্গো প্রবাহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

