পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ গত শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে করমর্দন করেন। এছাড়াও ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার আসনে তাকে স্বাগত জানান।
ঠিক একই সময়ে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সৌদি প্রেস এজেন্সি কর্তৃক এক বিবৃতিতে রিয়াদ নিশ্চিত করেছে যে, গত বছর স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির (এসএসডিএ) অধীনে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আবদুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে একটি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পৌঁছেছে।
এরপর থেকে গত দুই দিনে পাকিস্তানের সরকার এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এই প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন একটি দেশ অর্থাৎ সৌদি আরবকে সামরিকভাবে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানের অঙ্গীকার প্রকাশ করে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছিল।
সৌদি আরবের এই ঘোষণাটি যুদ্ধের মাঝে পাকিস্তানের সূক্ষ্ম এবং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এখনকার মতো পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা উভয় ভূমিকাই সমানভাবে সামলে নিতে পারবেন।
সেই থেকে গত দুই দিন অতিবাহিত হলেও পাকিস্তানের সরকার এই পরিস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর), তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-কেউই কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল- জাজিরার পক্ষ থেকে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সৌদি আরবের এই ঘোষণাটি যুদ্ধের মাঝখানে পাকিস্তানের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে অবিলম্বে সামনে নিয়ে এসেছে; এমন এক যুদ্ধ যা বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করেছে, একাধিক দেশে হামলা ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
একদিকে, ইসলামাবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। গত শনিবার তারা দেশ দু’টির প্রতিনিধি দলগুলোর আতিথেয়তা করেছে এবং তাদের মধ্যে আলোচনার পথ ভেঙে যাওয়ার পর পুনরায় তা চালু করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, এই এসএসডিএ এমন এক প্রধান মিত্রকে (সৌদি আরব) সামরিকভাবে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানের অঙ্গীকার প্রকাশ করে, যারা যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছিল। আর তেহরানও এই নিশ্চয়তা দেয়নি যে তারা সৌদি আরব বা উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোতে পুনরায় হামলা চালাবে না।
আপাতত পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা উভয় ভূমিকাই সামাল দিতে পারবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যত রাউন্ড প্রয়োজন ততবারই এই (মধ্যস্থতা) প্রক্রিয়া সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, সব পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সৌদি আরব সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া তুরস্কসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোতেও তার সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলছে। এ অবস্থায় পাকিস্তানের এই ভারসাম্য রক্ষার লড়াই আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা।

