আশা ভোসলের মৃত্যুর খবরে ভারতীয় কনটেন্ট ব্যবহার, পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেলকে শোকজ

0
আশা ভোসলের মৃত্যুর খবরে ভারতীয় কনটেন্ট ব্যবহার, পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেলকে শোকজ

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের জীবনাবসানের খবর প্রচার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। ভারতের এই কালজয়ী শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার গানের অংশ ও চলচ্চিত্রের দৃশ্য ব্যবহার করায় চ্যানেলটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি বা পেমরা। 

২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তানে ভারতীয় কনটেন্ট সম্প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে, এই সম্প্রচারকে সেই নিয়মের ‘ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পেমরার অভিযোগ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ২০০৯ সালের পেমরা বিধিমালা লঙ্ঘন করে জিও নিউজ এসব দৃশ্য প্রচার করেছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে এবং ১৪ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা এমনকি চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে নোটিশে।

তবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জিও নিউজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজহার আব্বাস। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে তার কাজকে স্মরণ করা সাংবাদিকতারই একটি অংশ। তার মতে, শিল্প ও জ্ঞান মানবতার যৌথ উত্তরাধিকার এবং এটি কোনো সীমানায় আটকে রাখা উচিত নয়। আজহার আব্বাস আরও মনে করিয়ে দেন যে, আশা ভোসলে পাকিস্তানের কিংবদন্তি নূর জাহানকে নিজের বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করতেন এবং নুসরাত ফতেহ আলী খানের মতো শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন। শিল্পীরা বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং মানুষকে কাছাকাছি আনেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পেমরার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। পাকিস্তান পিপলস পার্টির সিনেটর শেরি রেহমান বিষয়টিকে ‘দৃষ্টিভঙ্গির অভাব’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে এমন কড়াকড়ি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মাল্টি-অর্গান ফেইলিয়ারের কারণে মুম্বাইয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোসলে। সোমবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, যেখানে ভারতের চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা এই শিল্পী তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ‌‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘দাদাসাহেব ফালকের’ মতো সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here