ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে উপযুক্ত সুযোগ তৈরি হলে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সূত্রটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি সাপেক্ষে মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য তারিখ ও স্থান পর্যালোচনা করছেন। আলোচনার বর্তমান পর্যায়কে প্রাথমিক হিসেবে বর্ণনা করে ওই সূত্রটি বলছে, পরিস্থিতি যদি ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়, তবে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
গত শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকটি ছিল মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কয়েক সপ্তাহের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল।
আঞ্চলিক একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে তুরস্ক বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহের বৈঠকের জন্য জেনেভা, ভিয়েনা ও ইস্তাম্বুলের নাম প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আগামী দফার বৈঠকের জন্য পুনরায় জেনেভা ও ইসলামাবাদের নাম জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এখনো বিশ্বাস করেন যে, কূটনৈতিক উপায়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব। আলোচনার গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে সমঝোতার জন্য প্রয়োজনে বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও আভাস পাওয়া গেছে। মূলত পারমাণবিক ইস্যু ও বাণিজ্যিক অবরোধ নিয়ে দুই দেশের অনড় অবস্থান নিরসনেই এই সম্ভাব্য বৈঠকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

