‘এসআইআর একটা বড় দুর্নীতি, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এটা করা হয়েছে’

0
‘এসআইআর একটা বড় দুর্নীতি, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে এটা করা হয়েছে’

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর। দেশটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল ভুয়া ভোটার, মৃত ভোটার বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং তাতে ৯০ লাখের বেশি ভুয়া ভোটারের নাম বাদ গেছে। যদিও এ নিয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। 

দলের প্রধান মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ, ‘এসআইআর একটা বড় স্ক্যাম (দুর্নীতি)। এটা এসআইআর নয়। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবার জন্য একক প্রচেষ্টা। এটা একদিন প্রমাণিত হবে। আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ সবার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। ৯০ লাখ মানুষের নাম কেটে গেছে, এরমধ্যে ৬০ লাখ হিন্দু, ৩০ লাখ মুসলিম।’ 

শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়িতে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত থেকে এ মন্তব্য করেন মমতা ব্যানার্জি। 

বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত নিয়ে বিজেপি সরকার নির্বাচন চলাকালীন সময়ে দেশের সংসদে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ মমতার। তার অভিমত, ‘কত বড় অন্যায় দেখুন! এরা নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না। কারণ ওরা বাংলাকে টুকরো টুকরো করবে। এই করার নাম করে এনআরসি করবে।’ 

বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসলে সকলের জন্য এক আইন (ইউসিসি) চালু  করার যে ঘোষণা দিয়েছে তার বিরোধিতা করে মমতা বলেন, ‘এর অর্থ আপনাদের ধর্মচর্চা করার বা সংস্কৃতি পালন করার কোন নিজস্ব অধিকার থাকবে না। এতে মানুষের ধর্ম, শিক্ষা, ঐতিহ্য সমস্ত কিছু কেড়ে নেওয়া হবে। আমরা সকলেই এটার বিরোধিতা করবো।’ 

এমনকি এই নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে মমতা ব্যানার্জি যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন তারও একটা চক্রান্ত চালানো হয়েছিল বলে এদিন অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিথ্যে হলফনামা করে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করার চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারি। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত পারেনি।’ 

তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কে প্রার্থী, ভুলে যান। সরকারটা আমিই গড়বো। ২৯৪ টা কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী। এটা মনে রাখবেন।’ 
পাল্টা মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরে নির্বাচনে প্রচারণা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু এখন তারা এরাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে অনুপ্রবেশকারীদের সরকার বানাতে চায়। কিন্তু আমরা তৃণমূলকে অনুপ্রবেশকারীদের সরকার বানাতে দেব না। এই কারণে এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন বাংলার নিজের পরিচয় বাঁচিয়ে রাখার।’ 

আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যটিতে ক্ষমতায় আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি যে সংকল্প নিয়েছে সেটা কেবলমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, রাজ্য থেকে তৃণমূলের অরাজকতা এবং সিন্ডিকেট রাজত্ব দূর করবে। বাংলায় ডর বা ভয়ের কোন পরিবেশ থাকবে না, বাংলায় এবার ভালো সময় আসবে। বাংলার মেয়েরা আর ভয় পাবে না, অসুরক্ষিত থাকবে না, সম্মান এবং নিজের মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাবে।’  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here