ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই পতাকা তৈরির কারখানাগুলিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত এক করে রাজনৈতিক দলের পতাকা তৈরি করছেন কারিগররা। ফলে পরোক্ষভাবে ভোটের উৎসবে শামিল তারাও।
ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার দলীয় পতাকা। মিছিল, মিটিং কিংবা রাস্তায় টাঙানোর জন্য লাগে এসব পতাকা।
আজকের যুগে ডিজিটাল প্রচারণা যতই বাড়ুক, পতাকার চাহিদা এতটুকু কমেনি; বরং বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার জগাছা উনসানি দক্ষিণ পাড়ায় গেলেই তার প্রমাণ মেলে। উনসানি এলাকায় পতাকা তৈরির কারখানাগুলিতে সারা বছর নানা ধরনের পতাকা তৈরি হয়। ভারতের স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা তৈরির কাজ বেশি হয়।
তবে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে ভোট এলে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন দুই দফায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করতেই এসব কারখানায় হু হু করে অর্ডার আসতে শুরু করেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস ও আইএসএফের মতো বিরোধী দলগুলির প্রার্থীরাও হোয়াটসঅ্যাপে পতাকা তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।
উনসানির পতাকা তৈরির কারখানার কর্মীরা সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করছেন। মাঝে সামান্য সময় টিফিন। যেভাবেই হোক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডারের রাজনৈতিক পতাকা পৌঁছে দিতে হবে। ফলে কাজের চাপ সামলাতে কারখানার নির্দিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি বাইরের কারিগরদের দিয়েও কখনও কখনও কাজ করাতে হয়।
এখান থেকে তৈরি পতাকা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় পাঠানো হয়। এমনকি কলকাতার বড়বাজারেও যায়। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভোটের সময় পতাকার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মূলত ১৫–২০ ইঞ্চি এবং ২০–৩০ ইঞ্চি—এই দুই সাইজের পতাকার চাহিদা বেশি।
পতাকা তৈরির কারিগর বাবলু শেখ জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই অর্ডার আসতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কাজের বরাত আসছে। এখন কাজের ভীষণ চাপ, চাহিদাও প্রচুর।
অন্য এক কারিগর শেখ সাইফুল জানান, ঈদে মাত্র দুই দিন ছুটি পেয়েছেন। তারপর কাজে যোগ দিতে হয়েছে। এখন দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে, যাতে ভোটের আগে দলগুলো তাদের পতাকা হাতে পায়। সব দলের পতাকা তৈরি করলেও সবচেয়ে বেশি পতাকা তৈরি করছেন তৃণমূল ও সিপিআইএমের।
কারখানার মালিক রাজু হালদার জানান, বংশপরম্পরায় এই ব্যবসা চলে আসছে। সারা বছর জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় পতাকা তৈরি হয়। তবে নির্বাচন এলেই শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা তৈরি। এবার তৃণমূল ও বিজেপির দলীয় পতাকার অর্ডার সবচেয়ে বেশি, তারপর সিপিআইএম ও অন্যান্য দল। এ সময় কিছুটা লাভের মুখও দেখেন তারা।
তবে তাদের আক্ষেপও রয়েছে। ভোট আসে, ভোট যায়—যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ভোট মিটলে আর কেউ তাদের খোঁজ নেয় না।

