কমতে পারে প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ও আয়

0
কমতে পারে প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ও আয়

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর এই দেশের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সানেম-এর গবেষণার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি ও মানুষের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

গতকাল পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সানেম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ ঝুঁকির মুখে পড়ায় তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলএনজি আমদানির বড় অংশ নির্ভর করে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর, তাই সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সানেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেবে। ফলে দেশের রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিও প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। এতে বাণিজ্য কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর বিপরীতে প্রকৃত মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকট বিভিন্ন উৎপাদন খাতে অসম প্রভাব ফেলতে পারে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here