ডেভিড মিলারের ২০ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংসের পরও গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ১ রানে নাটকীয়ভাবে হেরে যায় দিল্লি ক্যাপিটালস।
ম্যাচের শেষ বলের আগের বলে একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন মিলার। এদিন শেষ দুই বলে দুই রানের রানের প্রয়োজন ছিল দিল্লির। শেষ বলের আগের বলে একটি রানের সুযোগ ছিল, যা স্কোর সমান করে ম্যাচটিকে সুপার ওভারে নিয়ে যেতে পারত তারা।
নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা কুলদীপ যাদব তার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে ডেভিড মিলারকে তার ওপর ভরসা করতে বলেন। কিন্তু এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান বাউন্ডারি মেরে খেলা শেষ করার আশায় সেই রানটি নিতে অস্বীকার করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ডেল স্টেইন মিলারের স্বার্থপর কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সেই সিদ্ধান্তটিই ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টেইন বলেন, উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের সহজাত প্রবৃত্তির চেয়ে কৌশলগত ক্রিকেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
যদিও তিনি মনে করেন, ওভারের শুরুতে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকানোর পর মিলারের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল। স্টেইন বলেন, অভিজ্ঞতা তাকে আরও নিরাপদ পন্থা অবলম্বনে উৎসাহিত করতে পারত।
স্টেইন বলেন, আপনি সেখানে কুলদীপের শারীরিক ভাষা পড়তে পারেন, সে মিলারকে বলছিল, আমার ওপর ভরসা রাখো, আমি এটা সামলে নেব। এরপর মিলার শট নেওয়ার পর কুলদীপ রানের জন্য দৌড় শুরু করেছিল, কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সে নিজের ওপর আস্থা রাখছিল। সে এইমাত্র ১০৬ মিটারের একটি ছক্কা মেরেছে, তাই সে তখন ছন্দে ছিল। সে দারুণ ফর্মে ছিল। কিন্তু মিলার এত ভালো খেলোয়াড় যে তার পক্ষে একটি সিঙ্গেল না নেওয়াটা ঠিক হতো না।
ডেল স্টেইনের যুক্তি ছিল একটি সিঙ্গেল নিতে পারলেই ম্যাচটি টাই হওয়া নিশ্চিত হতো এবং খেলাটি সুপার ওভারে গড়াতো, যেখানে দিল্লি পুনরায় সংগঠিত হয়ে তাদের শক্তিশালী ফিনিশারদের ওপর ভরসা করতে পারত।
সেই সুযোগটি প্রত্যাখ্যান করে ডেভিড মিলার খেলা দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত পথের পরিবর্তে একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সমাপ্তির পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আপনারা যা পাচ্ছেন, তা ড্র বা টাই যাই হোক না কেন, আপনাকে তা-ই নিতে হবে এবং তারপরে কুলদীপের মতো টেল-এন্ডের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা করতে হবে ওই সিঙ্গেলটি নেওয়ার জন্য। অথবা সে যদি সিঙ্গেলটি মিসও করল আপনি যথেষ্ট দ্রুত এবং বুদ্ধিমান যে দৌড়ে গিয়ে বাই রানটি নিতে পারবেন, যা কুলদীপের ক্ষেত্রে তিনি করতে পারেননি। সম্ভবত সামান্য দ্বিধা ছিল, এটা বিশ্বাস করা যে মিলার এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাটি থেকে বল মারতে পারেন। আর এই ভুলগুলোর জন্যই তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
শেষ বলের আগের বলে এক রান নিতে অস্বীকার করার পর, ডেভিড মিলারের শেষ বলে ২ রান করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি একটি স্লোয়ার বল মিস করেন এবং এক রান নেওয়ার মরিয়া চেষ্টায় তিনি একটি সহজ রান আউটে পরিণত হন।
এর সঙ্গে সঙ্গে গুজরাট টাইটান্স নাটকীয়ভাবে ১ রানের জয় নিশ্চিত করে, আর মিলার এবং দিল্লি ক্যাপিটালস একেবারে ভেঙে পড়ে। ড্রেসিংরুমে চুপচাপ বসে নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করতে করতে এই প্রোটিয়া তারকাকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। এটি ছিল আইপিএলের চলতি আসরে দিল্লির প্রথম পরাজয়। আগামী ১১ এপ্রিল তারা চেন্নােই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে।

