অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলেই ধ্বংস, ইরানের হুঁশিয়ারি

0
অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলেই ধ্বংস, ইরানের হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী সব বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌযানকে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই কৌশলগত জলসীমা অতিক্রম করতে হলে অবশ্যই ইরানি নৌবাহিনীর কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। রেডিও বার্তার মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো জাহাজ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে কিংবা পূর্বানুমতি ছাড়া যাতায়াতের চেষ্টা করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। 

ইরানের এই মারমুখী অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর সম্ভাব্য সব ধরণের হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির জন্য তিনি একটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কেবল প্রণালীটি সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করলেই এই দুই সপ্তাহের শান্তি বজায় থাকবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের এই সাম্প্রতিক হুমকির পর বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় অধিকাংশ জাহাজ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আতঙ্কিত নাবিকদের পাঠানো বিভিন্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা গেছে যে, পারস্য উপসাগরের আকাশে এখনো প্রচুর যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে। তেহরান যে কোনো মূল্যে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, তা তাদের এই কঠোর হুঁশিয়ারি থেকেই প্রমাণিত। যদিও পর্দার আড়ালে পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সমুদ্রপথে ইরানের এই সক্রিয়তা নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধমনী। বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং সারের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্য এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে যে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বড় সেতুগুলোতে হামলা থেকে সরে এসে শান্তির পথ খুঁজছেন বলে দাবি করছেন, সেখানে ইরানের ‘অনুমতি ছাড়া প্রবেশ মানেই ধ্বংস’ এমন বার্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here