কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে বড় পদক্ষেপ চীনের

0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে বড় পদক্ষেপ চীনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপ ১০ হাজার কার্ডের একটি বিশাল গণনাকেন্দ্র চালু করেছে। এটি পুরোপুরি নিজস্ব চিপে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে এটি চীনের কৌশলগত উদ্যোগ।

আলিবাবা জানিয়েছে, তাদের নিজস্বভাবে তৈরি ‘ঝেনউ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এটি গুয়াংডং প্রদেশের একটি তথ্যকেন্দ্রে চায়না টেলিকম-এর সহযোগিতায় স্থাপন করা হয়েছে। গ্রেটার বে এরিয়াতে এই আকারে ঝেনউ চিপচালিত এটি প্রথম ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ব্যবস্থায় ১০ হাজার চিপ একসঙ্গে একটি একক ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে শত শত বিলিয়ন প্যারামিটার-এর (তথ্য প্রক্রিয়াকরণের বিশাল গাণিতিক কাঠামো) মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রতিক্রিয়া সময় খুবই কম—মাত্র চার মাইক্রোসেকেন্ড। আলিবাবার ভাষ্য, আগের তুলনায় এটি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি দক্ষ।

এর আগে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস-ও শেনঝেন শহরে তাদের ‘অ্যাসেন্ড ৯১০সি’ চিপ দিয়ে একই আকারের আরেকটি ব্যবস্থা চালু করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু যন্ত্রাংশে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নয়, বরং সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নও।

চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি সেবা, নগর ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত উৎপাদন খাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আলিবাবা জানিয়েছে, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারভিত্তিক অর্থ পরিশোধ করে এই সুবিধা নিতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা ১ লাখ কার্ডে উন্নীত করার পরিকল্পনাও করেছে। এর লক্ষ্য খরচ কমানো ও কার্যকারিতা আরও বাড়ানো। যদিও চিপ নকশায় এনভিডিয়ার মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় চীন এখনো পিছিয়ে। তবু বড় আকারের সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তি পরিকল্পনারও অংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here