বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির ব্যাপক সাফল্য

0
বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির ব্যাপক সাফল্য

বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের এখন জয় জয়কার। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের দল। মেয়েরা বাছাই পর্ব পেরিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে। অভিষেক আসরে প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও সাগরিকা, অর্পিতাদের নৈপুণ্য দেখে ফুটবলপ্রেমীরা মুগ্ধ। ছোটদের এমন সাফল্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এর মাঝে আবার বড় সুখবর দিল দেশের জনপ্রিয় ক্লাব বসুন্ধরা কিংস। তারা চলতি বছর অক্টোবরে চীনে পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৬ হুরাই কাপে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে। কিংস ম্যানেজমেন্ট তা গ্রহণও করেছে। শুধু দলীয় সাফল্য নয়, নতুন ফুটবলার তৈরি করতে খুদে খেলোয়াড়দের নিয়ে গত বছর থেকে একাডেমি ঢালু করেছে এ ক্লাব। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু বসুন্ধরা কিংসই এ উদ্যোগ নিয়েছে।

দেশের ফুটবল জাগিয়ে তুলতে ও ফুটবলার সংকট দূর করতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে কিংস এমন মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যা শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তারই বড় প্রমাণ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র ক্লাব হিসেবে সাড়া জাগানো হুরাই কাপে খেলার আমন্ত্রণ। ১ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চীনের জাংজুতে এ আসর বসবে। অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক ফুটবলে চীনের আটটি ক্লাব খেলবে।

ইউরোপের বিখ্যাত ক্লাব জার্মানির বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নেদারল্যান্ডসের পিএসভি, ফেনর্ড, পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপি, দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের সাও পাওলো ও আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। স্বাগতিক চীনের বাইরে এশিয়ার শুধু কিংসই খেলবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করতে এসব ক্লাবে ফুটবল একাডেমি রয়েছে। কিংসের কর্মসূচি চোখে পড়ায় আয়োজক কমিটি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলন, ‘পৃথিবীর জনপ্রিয় ক্লাবে বয়সভিত্তিক দলগুলো হুরাই কাপে নিয়মিত অংশ নেওয়ায় বোঝা যায় টুর্নামেন্টে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা কতটুকু। বসুন্ধরা কিংসকে আমন্ত্রণ জানানোয় টুর্নামেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানায়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি খেলায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্তুতিও শুরু করব। আমরা তো গত বছর থেকে বিভিন্ন বয়সের ছেলেদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। ইতোমধ্যে বয়স ভাগ করে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও করি। লক্ষ্য ছিল ছেলেরা অনুশীলনে কতটুকু এগিয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা। আশার কথা এমন কয়েকজনকে পেয়েছি, যারা ভবিষ্যতে বড় মাপের ফুটবলার হতে পারবে। আমরা কিন্তু এখনো আবাসিক ক্যাম্প চালু করিনি। তার পরও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। চিন্তা রয়েছে দেশে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট করা। এতে অনুশীলনে থাকা ফুটবলারদের আরও ভালোভাবে যাচাই করা যাবে। তার আগেই কি না চীনে খেলার আমন্ত্রণ পেলাম। যা বড় উপকারে আসবে।’

ইমরুল বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ফিক্সচার বা গ্রুপিং এখনো তৈরি হয়নি। সুতরাং কিংস কাদের সঙ্গে খেলবে নিশ্চিত নয়। তবে এবার যেসব ক্লাব খেলছে তারা নিজগুণে বিখ্যাত। বিশ্বের অনেক খেলোয়াড়ের শুরুটা হয়েছে এসব বয়সভিত্তিক দলে খেলে। তাদেরই সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস। এতে কিংসের একাডেমিতে থাকা খুদে খেলোয়াড়রা যেমন উৎসাহিত হবে তেমনি ভালো খেলোয়াড় হতে অনুপ্রেরণা পাবে। যা দেশেরই উপকারে আসবে। ছেলেরা বিশ্বকাপের পরই টুর্নামেন্টে খেলবে। আর ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার যেসব দল খেলতে যাবে। প্রতিটি দেশই বিশ্বকাপ খেলবে। তাদের বিপক্ষে কিংসের ছেলেদের খেলাটা হবে আনন্দদায়ক।’

বসুন্ধরা কিংসের ছোটদের প্রশিক্ষণের মূল দায়িত্বে আছেন দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আবু জোবায়ের নিপু। তিনি বলেন, ‘কিংস কর্তৃপক্ষ আমাকে ভালোমানের দল গড়তে বলেছেন। কেননা হুরাই কাপ ছোটদের হলেও বিখ্যাত ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো খেলবে। আমি বলব আমাদের ছেলেদের জন্য এ এক বিরাট সুযোগ। শুধু খেলা নয়, শেখারও অনেক কিছু থাকবে। যে বিভাগই হোক ডর্টমুন্ড, পিএসভি, সাও পাওলো বা রিভার প্লেটের বিপক্ষে খেলা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা ভাগ্যেরও ব্যাপার। চীনও ফুটবলে শক্তিশালী দেশ। আশা করি এ টুর্নামেন্ট থেকে ছেলেরা যে সাহস সঞ্চার করবে তাতে আগামীর তারকা হওয়ার পথ খুঁজে পাবে। আগস্ট থেকেই অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্প শুরু করার ইচ্ছা। নিজেদের মধ্যে টুর্নামেন্ট করে তো কিছু খেলোয়াড়ের মান জানা আছে। আশা করি, হুরাই কাপে ভালোমানের দল নিয়েই খেলতে পারব। বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক বলেন, ‘হুরাই কাপে দাওয়াত পাওয়াটা নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। আমার বিশ্বাস শুধু কিংস নয়, এ টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের ফুটবলও উপকৃত হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here