ঘোর দুঃসময়েও সুখ খুঁজে পাওয়া যায়, যদি কেউ শুধু আলোটা জ্বালানোর কথা মনে রাখে। অ্যালবাস ডাম্বলডোরের সেই কালজয়ী উক্তি যেন আবারও সত্যি হতে চলেছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরছে জাদুর জগত। ২০২৬ সালের বড়দিনে মুক্তি পেতে যাওয়া নতুন হ্যারি পটার টিভি সিরিজ নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় তোলপাড়। তবে এই ফেরাটা যতটা আনন্দের, ততটাই বিতর্কের।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ট্রেলারটি নব্বই দশকের মানুষদের (মিলেনিয়াল) মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সিঁড়ির নিচের ছোট ঘর, কিংস ক্রস স্টেশনের ৯-৩/৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম আর হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসের সেই চিরচেনা শব্দ। ট্রেলারে দেখা গেছে ৪ নম্বর প্রিভেট ড্রাইভে ডার্সলি পরিবারের সেই হট্টগোল আর ডায়াগন অ্যালির রহস্যময়তা। তবে রেডিটসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের একাংশ বেশ অসন্তুষ্ট।
মিলেনিয়ালদের মতে, নতুন এই ট্রেলারে সেই পুরনো ম্যাজিক বা জাদুর উজ্জ্বলতা কম। কালার গ্রেডিং বা দৃশ্যায়ন কিছুটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল মনে হচ্ছে। অনেকের প্রশ্ন—যেখানে মূল সিনেমাগুলো এখনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে, সেখানে এই রিমেকের প্রয়োজনীয়তা কী? নতুন প্রজন্মের (জেন জি ও জেন আলফা) কাছে এই সিরিজটি এক নতুন বিস্ময়। যারা বই পড়েনি বা আগের সিনেমাগুলো দেখেনি, তাদের কাছে এই জাদুর জগত একেবারেই নতুন। কিন্তু পুরনো ভক্তদের কাছে এটা কেবল একটা শো নয়, বরং আবেগের জায়গা।
রেডিটের আলোচনায় একদল বলছেন, পুরনো চরিত্রদের আবার ফিরে দেখা (স্নেইপ, ম্যাকগোনাগল, ডাম্বলডোর) হবে দারুণ এক অনুভূতি। অন্যদলের মতে, ট্রেলারটি দেখে মনে হচ্ছে এতে সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে।
সিরিজটি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেও বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লেখিকা জে কে রাউলিং-এর ব্যক্তিগত মন্তব্য। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় নিয়ে তার বিতর্কিত অবস্থানের কারণে অনেকেই এই সিরিজ বয়কট করার ডাক দিয়েছেন।
বিতর্ক আর প্রত্যাশা-এই দুই নিয়েই হগওয়ার্টসের দরজা আবারও খুলছে। সিরিজের প্রথম সিজনটি মূলত প্রথম বই ফিলোসফার্স স্টোন-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ভলডেমর্টের সেই ভয়ংকর রূপ বা অ্যাভাডা কেডাভ্রার গর্জন ট্রেলারে না থাকলেও, ভক্তরা জানেন সামনে কী আসতে চলেছে।
সূত্র : এনডিটিভি।

