হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘Tuesday, 8:00 P.M. Eastern Time!’ (মঙ্গলবার রাত ৮টা)। এটা তার নতুন ডেডলাইন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আরেক পোস্টে ইরানকে লক্ষ্য করে বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’; অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে আমি ওখানে সবকিছু উড়িয়ে দেব।
একইভাবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, তারা যদি প্রণালি বন্ধ রাখে, তাহলে দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থাপনাও হারাবে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ‘দেশে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না এবং কোনো সেতুও দাঁড়িয়ে থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দফায় ট্রাম্প সময়সীমা বাড়িয়েছেন। প্রথমে তিনি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। পরে তা কয়েক দিন বাড়িয়ে সোমবার পর্যন্ত নেওয়া হয়। এবার আবার নতুন করে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ডেডলাইন ঘোষণা করলেন তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার ও অন্যান্য বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশন-এ বেসামরিক জনগণের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হয় না।
উল্লেখযোগ্য যে, ট্রাম্প এর আগেও ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি নতুন ডেডলাইন ঘোষণা করলেন।

