গাইবান্ধা শহরের বেশির ভাগ ঘর-বাড়ি ও বিভিন্ন ভবনের মেঝে ঘেমে উঠছে। সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিটি ভবনের নিচ তলার মেঝে এমন অবস্থা বিরাজ করছে। দিনে তিন থেকে ৪ বার মুছেও মেঝে ঘামা থামানো যাচ্ছে না। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঘরের মেঝে ও দেয়াল ঘেমে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সরেজমিনে শহরের ডিবি রোড, থানাপাড়া, মাস্টারপাড়া, পলাশপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাটের ছোট বউলেরপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভবনেই মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে ও ভেজা। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব ভবনে বসবাসকারী মানুষ। সব সময়ই ঘরের মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকায় পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পড়েছেন বেশি বিপাকে।
শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী রেজওয়ানুল সজিব বলেন, সকালে ওঠে দেখি ঘরের মেঝে ঘামা। প্রথমে মনে করেছিলাম কেউ হয়তো পানি দিয়ে মেঝে মুছে ফেলেছে। পরে দেখি মেঝে ভেজাই থাকছে। ভয় পেয়ে গেছিলাম।
শহরের থানাপাড়া এলাকার গৃহিনী মনোয়ারা বেগম বেবি (৬০) বলেন, সব সময় মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকতেছে। এতে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। সারাদিন ফ্যান চালিয়েও শুকানো যাচ্ছে না।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবীদ মেস্তাফিজুর রহমান বলে, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঘরের মেঝে ও দেয়াল ঘেমে উঠতে পারে। এটি নিয়ে কোনো ভয়ের কারণ নেই, এটি কেবল আবহাওয়া পরিবর্তনের একটি লক্ষণ। এর সাথে ভূমিকম্প বা কোনো দুর্যোগের সম্পর্ক নেই, তাই আতঙ্কিত না হয়ে মেঝে নিয়মিত শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ও ঘরে বাতাস চলাচলের সুযোগ রেখে সতর্ক থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

