মোংলায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবার জানায়, উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মাকড়ঢোন-জয়খাঁ এলাকায় দুই বছর ধরে ৯০ বিঘার একটি চিংড়ি ঘের করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা আ. মান্নান, আলাউদ্দিন ও সাগর হাওলাদার। এ ঘের নিয়ে স্থানীয় জুলফিকার আলী মল্লিক, জাহাঙ্গীর মল্লিক ও ওলি মল্লিকের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।
এবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ঘের সংলগ্ন একটি দোকানে বসেছিলেন মান্নান, আলাউদ্দিন ও সাগর। এ সময় জুলফিকার আলী মল্লিকের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর মল্লিক, জালাল মল্লিক, সাইফুল মুহুরী, ডাকাত রুমি ও ওলি মল্লিকসহ ৭০-৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘের মালিক আ. মান্নান, মনির, সাগর, আলাউদ্দিন, আলমগীর, সালমা, সফিক ও সোহরাব আহত হন। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে গুরুতর আহত মনিরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত আ. মান্নান, আলাউদ্দিন ও সাগর বলেন, তারা দুই বছর ধরে বৈধভাবে ঘেরটি পরিচালনা করছেন। ঘের দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, হামলার সময় সালমা বেগমের দুটি দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে এবং দেড় লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। তাদের দাবি, হামলাটি পুলিশের উপস্থিতিতেই হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না।
মোংলা থানার এএসআই সুব্রত দেবনাথ বলেন, ঘেরটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমঝোতার জন্য তিনি ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে তিনি সেখান থেকে সরে যান। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

