চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের একটি স্কুলে ভয়াবহ হামলার ঘটনা শিগগিরই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী এই হামলার তদন্ত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শেষ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।
স্থানীয় সময় (২৭ মার্চ) শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের শাজারে তাইয়েবা নামের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুলবশত বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সিএনএন নিউজ। এতে শিশুসহ ১৭০ জন নিহতের ঘটনায় বেশ কয়েকটি দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। স্কুলটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি ঘাঁটির কাছে অবস্থিত ছিল।
মর্মান্তিক এই হামলার জেরে আলোচনার জন্য তেহরান জাতিসংঘের জেনেভা পরিষদে আলোচনার আহ্বান জানায়। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভিডিওলিংকের মাধ্যমে ভলকার তুর্ক বলেন, যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতেই হবে।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সেই হামলা নিয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্কের সময় ভলকার তুর্ক বলেন, মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হামলার ঘটনাটি তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন৷ আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (তদন্তের) সেই প্রক্রিয়া শেষ করে এর ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি৷
তিনি আরো বলেন, যে ভয়ংকর ক্ষতি হয়েছে তার জন্য অবশ্যই ন্যায়বিচার হতে হবে। দেশগুলোর মধ্যে যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, এ বিষয়ে আমরা সবাই একমত হতে পারি, স্কুলশিক্ষার্থীদের হত্যা করে তার সমাধান হবে না৷
সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ইরানের স্কুলে হামলার ঘটনায় সামরিক তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়৷ সেখানে বলা হয়, ‘লক্ষ্য’ নির্ধারণে ভুল হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে৷
তবে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে অনুষ্ঠিত বিতর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন মিনাব শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে সেদিন ‘পরিকল্পিত, পর্যায়ক্রমিক হামলা’ চালানো হয়েছিল৷ এক ভিডিও বক্তব্যে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিনের হামলায় ১৭৫ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষককে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।

