ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রিত তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারে কোনো সুফল না পাওয়ায় এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। তেহরান অভিযোগ করেছে, চুক্তির সদস্যপদ বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রমের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
এনপিটির মূল লক্ষ্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করা হলেও ইরানের ক্ষেত্রে তা হয়নি। ইসরায়েল এই চুক্তির সদস্য নয় এবং কোনো চাপের মুখে পড়েনি। তেহরান সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।
জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তির আওতায় ইরান অতিরিক্ত প্রোটোকল মেনে আন্তর্জাতিক তদারকিও গ্রহণ করেছিল।
ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পুতুল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রোসির মন্তব্য অনুযায়ী, একটি পারমাণবিক হামলা ইরানের সব স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে। ইরান এই বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘নির্মম’ হিসেবে দেখেছে।
মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞ ডেভিড অলব্রাইটের পূর্ববর্তী মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আইএইএ পরিদর্শকরা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন। তাই চুক্তিতে থাকার যৌক্তিকতা নেই।
ইরানের অবস্থান, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে এনপিটি এখন শুধু গোয়েন্দাগিরি ও ইরানের অধিকার খর্ব করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই দ্রুত চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

