ইসলামাবাদের অনুরোধে ইরানের শীর্ষ কূটনৈতিসহ দেশটির সংসদীয় স্পিকারকে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর হিট তালিকা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করেছিল। কিন্তু কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্কের পর তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলিদের কাছে আব্বাস আরাগচি এবং সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের অবস্থান বিষয়ে তথ্য ছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিলাম, যদি তাদের নির্মূল করা হয়, তাহলে কথা বলার মতো আর কেউ থাকবে না। এরপর ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে বিরত থাকতে বলে।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে পাকিস্তানের সামরিক ও পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুসারে, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় কর্মকর্তাদের কয়েক দিনের জন্য ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
উত্তেজনা চরমে থাকায় পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের পাশাপাশি তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগের বিরল চ্যানেল বজায় রেখেছে এবং আলোচনার জন্য একটি সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব ইরান বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানো এবং আঞ্চলিক অর্থায়ন নেটওয়ার্ক ছিন্ন করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সংযোগের কারণে পাকিস্তানকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।

