বেপরোয়া চালনা ও নিষিদ্ধ যানের অবাধ চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছেই

0
বেপরোয়া চালনা ও নিষিদ্ধ যানের অবাধ চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছেই

ঈদ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নিষিদ্ধ তিন চাকার বাহন ও মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী বহনেও দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারসহ আরো কয়েকটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও শঙ্কা।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। জবাবদিহির সংস্কৃতি না থাকায় দেশে একের পর এক দুর্ঘটনা বাড়লেও তাতে কারো যেন কিছু আসে যায় না। মহাসড়কে গাড়ি চালানোর দক্ষতা না থাকলেও চালক মহাসড়কে যাত্রী বহন করছেন। এখানে বেশি লাভের আশায় চালকরা বেশি ট্রিপ দিচ্ছেন। অনেকে টানা গাড়ি চালাচ্ছেন মহাসড়কে। চলতে গিয়ে কোথাও দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা থেকেই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। এই সরকারকে তাই বিশৃঙ্খলা দূর করতে উদ্যোগী হতে হবে। নৈরাজ্যের কারণে জনগণকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের  মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, আইন অমান্য করা এবং চালকদের অসতর্কতা। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা ছিল। বিশেষভাবে লক্ষ করা গেছে, কিছু স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও অনেক জায়গায় আইন প্রয়োগে ধীরগতি ও শৈথিল্য ছিল স্পষ্ট। ফলে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার জন্য এখনই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। ঈদযাত্রাকে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো করে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

পরিবহন বিশ্লেষক নুর নবী শিমু বলেন, গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের আরো উদ্যোগ দরকার। এবার ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখা গেছে। বহু নিষিদ্ধ বাহন অবাধে যাত্রী বহন করেছে। প্রাণহানিও বেশি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here