ট্রাম্পের দেয়া কী সেই ধোঁকা, যা মনে রেখেছে তেহরান

0
ট্রাম্পের দেয়া কী সেই ধোঁকা, যা মনে রেখেছে তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ঘিরে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চায় না তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্প এর আগে দুইবার তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়ায় ‘ধোঁকা’ দিয়েছেন। তাই তৃতীয়বার একই পরিস্থিতিতে পড়তে তারা রাজি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, আগামী বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হোক। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অতীতে আলোচনার কথা বলার পরও হঠাৎ সামরিক হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুনে নির্ধারিত পারমাণবিক আলোচনার আগে ইসরায়েলের হামলা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা আলোচনার পরপরই নতুন হামলার ঘটনা তাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক সক্রিয় থাকলেও তেহরান মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার প্রস্তাব একটি কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং সামরিক প্রস্তুতি তাদের এই আশঙ্কা জোরদার করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনায় যেতে চায়। এক উপদেষ্টা জানান, ট্রাম্প একদিকে চুক্তির জন্য হাত বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও রাখছেন।

হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তার নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের ‘উপহার’ দেওয়া হয়েছে, যা তেল গ্যাস এবং হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সামরিক দিক থেকেও চাপ কমাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, হাজার হাজার সৈন্য এবং মেরিন ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যদেরও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নিশ্চয়তার বিষয় রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে আলোচনার ভিত্তি করতে চায়। তবে ইরান এখনো নিশ্চিত নয়, এটি বাস্তব আলোচনা নাকি নতুন কোনো কৌশল।

সব মিলিয়ে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। আগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে তেহরান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, আর ওয়াশিংটন চেষ্টা করছে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখতে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here