শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে কিশোরগঞ্জে ফসলের ক্ষতি

0
শিলাবৃষ্টি-ঝড়ে কিশোরগঞ্জে ফসলের ক্ষতি

শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে কিশোরগঞ্জে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল ও রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ দুর্যোগ বয়ে যায়। 

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলী, পাকুন্দিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ও কেওয়াড়জোড়, ইটনা উপজেলার সদর, এলংজুরী, ধনপুর, মৃগা ও বাদলা, অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর, আব্দুল্লাহপুর ও বাঙালপাড়া, নিকলী উপজেলার সিংপুর, পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ও চরপলাশ, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ও পুমদী, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি এবং ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি, আগানগর, গজারিয়া, কালিকাপ্রসাদ, শিবপুর ও শ্রীনগর এলাকা।

মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, তিনি ৩০ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন, যার মধ্যে ২০ একরেরও বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ইউনিয়নে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইটনা উপজেলার নন্দীগ্রামের কৃষক গোলাম রহমান জানান, তিনি ১১ একর জমিতে ভুট্টা এবং ৩ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে চার লাখ টাকারও বেশি। প্রায় ১০ লাখ টাকার ফসল পাওয়ার আশা থাকলেও এখন খরচ ওঠা নিয়েই শঙ্কায় আছেন।

ইটনার বলদা হাওরের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি এলাকার কৃষক রোমান আলী শাহ জানান, মাত্র ১০ মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে বোরো ধানের শীষ বের হওয়ার সময় এ ধরনের দুর্যোগে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে মিঠামইনে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর, ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টরসহ মোট ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর বোরো জমির ক্ষতি হয়েছে। তবে বোরো ধান ও ভুট্টাসহ প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে কৃষকদের দাবি।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগে ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here