ইরান যুদ্ধ থামাতে দিচ্ছেন না সৌদি, হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে বারবার ফোন

0
ইরান যুদ্ধ থামাতে দিচ্ছেন না সৌদি, হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে বারবার ফোন

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর অবস্থানে রাখতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একাধিক ফোনালাপে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ। এসব আলোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, ইরানকে দুর্বল বা বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে না দিলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সূত্রগুলো বলছে, সৌদি নেতৃত্ব মনে করছে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তাই তারা চায়, ইরানের কট্টরপন্থী সরকারকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করা হোক।

গত এক সপ্তাহে হওয়া একাধিক আলোচনায় যুবরাজ ইরানকে ‘স্থায়ী হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই হুমকি দূর করতে হলে কেবল সামরিক চাপ নয়, শাসনব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল একটি দুর্বল ইরানকে মেনে নিতে পারে, যদি সেটি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ব্যস্ত থাকে এবং বাইরের দিকে হুমকি তৈরি করতে না পারে। কিন্তু সৌদি আরবের দৃষ্টিতে অস্থিতিশীল ইরানই বরং বড় ঝুঁকি।

এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও একটি দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ্যে ট্রাম্পের অবস্থানেও কিছুটা দ্বিধা দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে তেহরান এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here