বেড়ায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

0
বেড়ায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

পাবনার বেড়া উপজেলায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হাতিগাড়া ও শম্ভুপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দুই গ্রামের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর সঙ্গে সম্প্রতি শম্ভুপুর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ব্যবসার অর্থ বণ্টন নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ঈদের দিন থেকে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়, মঙ্গলবার তা সংঘর্ষে গড়ায়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন পথচারীও আছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেড়া মডেল থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, সেনাবাহিনীও নজরদারি চালাচ্ছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা জানান, ঈদের দিন থেকে এ বিরোধ চলছিল। শুরুতে পুলিশ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও পরে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here