সারাদেশে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন, হবিগঞ্জে বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন, টেকনাফে দুইজন, কক্সবাজারে একজন, চট্টগ্রামে একজন, নাটোরে একজন, সুনামগঞ্জে একজন, কিশোরগঞ্জে দুইজন এবং কুড়িগ্রামে একজন নিহত হয়েছেন।
জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
কুমিল্লা:
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি এক কিলোমিটার কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। ট্রেনের মাথায় বাসটি আটকে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকা অতিক্রম করছিলো। এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এসময় বাসটিকে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলগেইটের সিগন্যাল ম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা পর ট্রিপল নাইনে অনেকবার ফোন দিলেও কেউ রেসপন্স করেনি। এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে সিগন্যাল না থাকার কারণে বাসটি রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে আমরা দুর্ঘটনা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, আমরা এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের লাশ পেয়েছি। দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তবে অপর ১০ জনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও বাসের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আঞ্জুরা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাধবপুরে পিকআপভ্যান ও বাসের সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর পিকআপ ভ্যানটি পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানে থাকা ৪ জনকে উদ্ধার করে মাধবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী:
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মোরশেদ (৩৮) ও মোহাম্মদ সোহাগ (৩৯)। অপর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের লাশ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহতদের এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলছিল। ব্রিজের আগে স্পিড ব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এসময় একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয় এবং ১১ জন আহত হয়।
কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী আনিস (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ-হারিয়াখালী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিস টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী বকসুর ছেলে। এক মাস পর তার বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন আনিস। পথে পিচ্ছিল সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল বশর জানান, সড়কে লবণ মিশ্রিত পানি জমে থাকায় রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এতে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার জানায়, সম্প্রতি তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। রবিবার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আসবেন বলে বাজার করার জন্য দ্রুত বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু আর হলো না।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন যাত্রী।
বুধবার সকালে পটিয়ার জলুয়ার দিঘীপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দুই ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে ও পটিয়া থানা পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি বাস জলুয়ার দিঘীপাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসচালক ও যাত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে বাঁশি মোহন দাশ (৫০) নামে এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ (৫), জয়নাল (৩০), মিন্টু দাশ (১৯), আনোয়ার (৩৮), নুরুল আজাদ (২৯), তাহের (৪৬), টিপু চৌধুরী (৩৬) ও শিরীন আক্তার (৪৭) প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাস থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পানি দিয়ে খড়ের স্তূপের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসগুলো জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
রবিবার বিকেলে ছয়সূতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল হাই রিপনের ছেলে জাকির হোসেন (১৮) ও একই গ্রামের ছাব্বির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে বিজয় (১৮)।
ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার চৌধুরী জানান, একই মোটরসাইকেলে তিনজন ছিলেন। ছয়সূতি এলাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এ সময় একটি পিকআপ তাদেরকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে নয়ন শেখ (১৬) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১২টা দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর লুৎফর রহমানের ইটভাটার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন জেলার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে ও পাইকপাড়া মির্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর লুৎফর ইটভাটা এলাকায় সড়কের ধারে কিছু তালগাছ রয়েছে। সেখানে পথচারীরা যানবহন থামিয়ে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই যান বিনোদনের জন্য। সেখানে নিহত নয়ন, তার বন্ধু রাব্বিসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখান থেকে নয়ন সুজুকি মডেলের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে খোকসার দিকে যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেলের ব্রেকে চাপ দিলে পিছনের চাকা স্লিপ করে সড়কের ধারে অবস্থিত বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
এতে নয়ন গুরুতর আহত হলে তার বন্ধুরা তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করলে বন্ধুরা নয়নের মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। দুপুর ১২ টা ২৭ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মরদেহটি নেই। কমপ্লেক্সে সামনে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছেন নিহত নয়নের মা।
এ সময় নয়নের মামাতো ভাই রাসেল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় নয়নের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে এসেছি। তবে মরদেহটি এখানে নেই। ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি বলে তিনি জানান।
মুঠোফোনে নয়নের বন্ধু মো. রাব্বি বলে, ‘কয়েকজন বন্ধু মিলে মহাসড়কের তাল বাগান এলাকায় ঘুরতে গিছিলাম। সেখান থেকে খোকসা যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেওয়া হয়। পথে মোটরসাইকেলের ব্রেকে চাপ দিলে সুজুকি মোটরসাইকেলের চাকা স্লিপ কেটে বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নয়নের গাড়ি আগে ছিল। আর তারা ছিল পিছনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের আসার আগেই নয়নের মৃত্যু হয়েছিল। ওর বন্ধুরা মরদেহটি নিয়ে চলে গেছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন, বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি মহাসড়কে হওয়ায় হাইওয়ে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
নাটোর:
আজকে গায়ে হলুদ আর আগামীকাল বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। আনন্দঘন এমন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জুলফিকার আলি জিল্লু নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গড়মাটি কলোনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, সকাল ৮টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ব্যবহৃত গাড়িটি সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে পার্কিং করা একটি ট্রাকের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত জিল্লু পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের আনছারুলের ছেলে। বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি বনপাড়ায় বোনের বাড়ি থেকে বোন ও দুলাভাইকে আনতে যাচ্ছিলেন। পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, আনন্দের ঘর মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গাগলী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক শান্তিগঞ্জের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম মুক্তাখাই থেকে সাফিকুল ইসলাম ও তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। উপজেলার গাগলী এলাকায় এসে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। পরে সেখানে থাকা স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সাথে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং একজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডিউটি অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেটে রেফার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাউদা খাতুন (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা-মা গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চর রাজিবপুর উপজেলার চর রাজিবপুর ইউনিয়নের বটতলা কারিগরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হারুয়া বাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫) তার স্ত্রী মোছা. ঝরণা বেগম (৩১) ও মেয়ে সাউদা খাতুনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি রৌমারীর উদ্দেশে রওনা দেন। পথে বটতলা কারিগরপাড়া এলাকায় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। এ সময় তাদের মেয়ে সাউদা খাতুনের ডান হাত ভেঙে যায় এবং তার অবস্থা গুরুতর হলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই সাউদা খাতুনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
চর রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

