বগুড়ার বিনোদনকেন্দ্রে ভিড়, আগ্রহের কেন্দ্রে ক্যাবল কার

0
বগুড়ার বিনোদনকেন্দ্রে ভিড়, আগ্রহের কেন্দ্রে ক্যাবল কার

ঈদের নামাজ আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর বগুড়ার মানুষ ছুটছেন বিনোদনের খোঁজে। পার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শুধু পার্কই নয় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ছুটছেন প্রকৃতির মাঝে। 

ঈদের দ্বিতীয় দিনে রবিবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, মম ইন ইকো পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ক্যাবল কার, সারিয়াকান্দির কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ, বগুড়া গ্রিন রিসোর্টসহ শহরের আশেপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। বিশেষ করে মম ইনে উত্তরবঙ্গের প্রথম ক্যাবল কার চালু হওয়ায় এখানে দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে। এছাড়া এখানে ঈদের ছুটিতে থাকছে ডিজে শো এবং বিভিন্ন ধরনের রাইড। 

এছাড়া ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও সারিয়াকান্দিতে মানুষের ঢল নেমেছে। ভিড় সামলাতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়ে। ঈদের দিন থেকে বগুড়ার পার্কগুলোও হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

সবখানেই পরিবার, বন্ধু আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ। কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউবা আবার গল্প-আড্ডায় নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। আবার কেউ নিছক সময় কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে ঈদের ছুটিতে মানুষ খুঁজছেন স্বস্তি, আনন্দ আর একটু ভালো সময়।

সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর কালিতলা হার্ড পয়েন্ট, প্রেম যমুনার ঘাটসহ নদী তীরেও অসংখ্য মানুষের সমাগম দেখা গেছে। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ, নৌকায় ভ্রমণ, নদী তীরে বসানো নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলনা আগতদের দিচ্ছে নির্মল আনন্দ।

সারিয়াকান্দিতে নবরূপে সজ্জিত কালিতলা হার্ড পয়েন্টে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন শাজাহানপুর উপজেলার আমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এবারের ঈদে ছুটি বেশি। তাই স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। শ্যালো চালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা যমুনা নদীতে বেড়িয়েছেন। পরিবারের সবাই অনেক দিন পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও সুন্দর সময় কাটিয়েছেন।

এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ভিড় করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম নগরী পুন্ড্রনগরের ৯২৯টি নিদর্শন সাজানো হয়েছে ৪৪টি শোকেসে। ঈদের ছুটিতে এসব দেখা যাবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা বলেন, ঈদের ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীরা বেশি আসেন। এ সময় তাদের জন্য স্পেশাল সুবিধা দেওয়া হয়। 

বগুড়া মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের অপারেশন ম্যানেজার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে হোটেলের চারপাশে ৪০ মিনিটের রাউন্ড ট্রিপের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি চেম্বারে চারজন করে দর্শনার্থী বসে মম ইন এবং এর আশপাশে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ আছে তা উপভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া বগুড়া শহরের খান্দার এলাকার ওয়ান্ডার ল্যান্ড, সদরের সাবগ্রাম ছাতিয়ানতলা গ্রিন রিসোর্ট, আদমদীঘির সান্তাহার শখের পল্লিসহ সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ও ধুনটে যমুনা নদীর বুকে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি অস্থায়ী বিনোদনকেন্দ্র। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here