মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যেভাবে ক্রিকেট বলের সংকট তৈরি করেছে

0
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যেভাবে ক্রিকেট বলের সংকট তৈরি করেছে

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত। ‍যার শুরুটা হয় ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে যৌথ হামলার মাধ্যমে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মার্কিন ঘাটিতে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে গিয়ে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করতে হয়েছে এই অঞ্চলে পূর্বনির্ধারিত বেশ কিছু খেলা ও টুর্নামেন্ট। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দূরবর্তী দেশ ইংল্যান্ডে বল সরবরাহেও জটিলতা তৈরি করেছে।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ও টেস্ট ম্যাচে ব্যবহৃত ডিউকস বলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কথা জানিয়েছেন মালিক দিলীপ জাজোদিয়া। যদিও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্ট মৌসুমে হাতে সেলাই করা বলের কোনো ঘাটতি হবে না। জাজোদিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেছেন, ‘প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’ যদিও এর আগে কিছু কাউন্টি ক্লাব তাদের স্বাভাবিক সরবরাহের অর্ধেক বল পাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

মূলত সমস্যা হয়েছে বলের সরবরাহ ব্যবস্থায়। ডিউকস বল তৈরির প্রক্রিয়াটি একটি ‘হাইব্রিড’ মডেল অনুসরণ করে। স্কটল্যান্ডে উৎপাদিত অ্যাবারডিন অ্যাঙ্গাস জাতের গরুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, যা পরে স্কটল্যান্ডের চেস্টারফিল্ড শহরে প্রক্রিয়াজাত (ট্যানিং) করা হয়। এরপর সেই চামড়া ভারত ও পাকিস্তানের কারখানায় পাঠানো হয়, যেখানে সেলাই করা হয় বল। পরে আবার ইংল্যান্ডের ওয়ালথামস্টো কারখানায় পাঠিয়ে চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়।

পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে জাজোদিয়া বলেন, ‘এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবহন জরুরি। কোথাও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়বেই। পৃথিবী এখন অস্থির, এদিক-সেদিক রকেট হামলা হচ্ছে, বিমানবন্দর বন্ধ হচ্ছে। জীবন কি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে? মৌসুম শুরু হলে সমস্যাগুলো বেশি স্পষ্ট হয়। যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমরা অন্তত অর্ধেক বল সরবরাহ নিশ্চিত করি।’

প্রতি গ্রীষ্মে গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার বল তৈরি করা হয়। যা ব্যবহৃত হয় টেস্ট ও প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের ৩৩টি ক্লাব প্রিমিয়ার লিগকেও সরবরাহ করা হয়। তবে ঘাটতি মূলত ক্লাব ও লিগ পর্যায়ের ক্রিকেটে। বল তৈরি একটি অত্যন্ত দক্ষতানির্ভর কাজ হওয়ায় উৎপাদন হঠাৎ বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানান জাজোদিয়া, ‘আপনি হঠাৎ উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারবেন না। এটি দক্ষ কর্মীদের কাজ, আর কাঁচামালের বিষয়ও অনিশ্চিত। একটি ক্রিকেট বল তৈরি করতে সময় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা (ম্যান-আওয়ার লাগে।’

আগামী ৩ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম শুরু হবে। জাতীয় দল ৪ জুন থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট এবং ১৯ আগস্ট থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও তিনটি টেস্ট খেলবে। এর আগে ডিউকস বলের সরবরাহের বিষয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) এক মুখপাত্র বলছেন, ‘পেশাদার কাউন্টি দলগুলো মৌসুম শুরুর আগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিউকস বল পেয়েছে।’ আন্তর্জাতিক টেস্ট সিরিজের জন্যও যথেষ্ট বল মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে, যুদ্ধের কারণে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে আকাশপথ, এর আগেই অবশ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে। জাজোদিয়া ‘ডেইলি মেইল’-কে বলেন, ‘আগে ১২০টি বলের একটি বাক্স পরিবহনে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ ডলার খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ পণ্য মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যায়, আর সেখানে যদি রকেট হামলা হয়, তাহলে বড় সমস্যা তৈরি হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here