ঈদের দিন সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। এমন বৈরী আবহাওয়ায় ঈদের নামাজ মসজিদে হবে, নাকি ঈদগাহ মাঠে? এ নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের বারান্দায় আহত রুবেল, জুয়েল, মন্টু প্রামাণিক ও ফিরোজা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের হাতে, মুখে, মাথায় আঘাতের ক্ষত।
এদিকে গ্রামের রোকেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ‘ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে রাস্তায় মারামারি হয়েছিল। আর ওরা এসে আমার বাড়িতে ভাঙচুর করে লুট করে নিয়ে গেছে।
এছাড়া ছার খাতুন বলেন, ‘এরশেদ, আলম, সাইফুল এসে আমার ছেলে রহমানের অটোরিকশা ও বাড়ি ভেঙে চুরমার করেছে।’
চর এলঙ্গী আচার্য্য ঈদগাহ ময়দানের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রায় ৫০০ জন মানুষের বসবাস গ্রামটিতে। বৃষ্টির কারণে সাড়ে ৮টার নামাজ সাড়ে ৯টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু একটি পক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ কারণে অন্তত ৪৫০ জন মানুষ এবার নামাজ পড়তে পারেনি। সংঘর্ষ আর হামলার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ঈদের নামাজ মসজিদে হবে, না কি ঈদগাহে; এ নিয়ে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

