সিডনি বন্দরে ১৯টি দেশের ৩১টি যুদ্ধজাহাজের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া। ২১ মার্চ শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী আয়োজনকে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধজাহাজের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহড়াকে ঘিরে পোতাশ্রয়ের আশপাশের জলপথে অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকা প্রবেশ-নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, আয়োজনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদ্যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নৌবাহিনী সিডনি হারবারে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শন করছে এবং যৌথ কৌশলগত সক্ষমতা তুলে ধরছে।
আয়োজকরা জানান, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যৎ যৌথ অভিযানের সক্ষমতা আরও জোরদার করা। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
দিনভর কর্মসূচিতে যুদ্ধজাহাজগুলোর ধাপে ধাপে বন্দরে প্রবেশ, আনুষ্ঠানিক ফ্লিট রিভিউ, আকাশ প্রদর্শনী এবং গান স্যালুটের মতো নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উপস্থিত রয়েছেন। যা আয়োজনটির রাষ্ট্রীয় গুরুত্বও তুলে ধরছে।
সাধারণ মানুষের জন্যও এই আয়োজন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সিডনি অপেরা হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ এই দৃশ্য উপভোগ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বহুজাতিক নৌ মহড়া শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একসঙ্গে এতসংখ্যক বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শুধু সামরিক আয়োজনই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি শক্ত বার্তা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

