হরমুজ প্রণালী বন্ধ, খাদ্য সংকটের মুখে কয়েক কোটি মানুষ

0
হরমুজ প্রণালী বন্ধ, খাদ্য সংকটের মুখে কয়েক কোটি মানুষ

জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার জন্য এক ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় কেবল জ্বালানি নয় বরং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। 

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের চাহিদার সিংহভাগ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমানে সৌদি আরব প্রয়োজনীয় খাদ্যের ৮০ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯০ শতাংশ এবং কাতার প্রায় ৯৮ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দেওয়া এখন এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। হরমুজ প্রণালীতে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত দুই ডজন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুটে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। অনেক জাহাজ মাঝপথে আটকা পড়ে আছে কিংবা ভারতের মুন্দ্রা বা শ্রীলঙ্কার কলম্বোর মতো দূরবর্তী বন্দরে নোঙর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বীমা ও পরিবহন খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কন্টেইনার প্রতি অতিরিক্ত ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে। 

দুবাইয়ের খুচরা বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, আগামীতে দুগ্ধজাত পণ্য ও তাজা শাকসবজির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সংকট মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে আকাশপথ ও সড়কপথ ব্যবহারের চেষ্টা চললেও তা সমুদ্রপথের বিশাল চাহিদাকে পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম নয়। এর মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওমান ও আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন বাণিজ্যিক করিডোর তৈরির চেষ্টা করছে এবং কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতা সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে তুরস্ক হয়ে সড়কপথে খাদ্য আনার পরিকল্পনা করছেন। 

যদিও মার্কিন প্রশাসন এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে নৌ-এসকর্ট সুবিধা পাওয়া গেলেও সেখানে খাদ্যবাহী জাহাজের চেয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই অঞ্চলে কেবল তেলের দাম নয় বরং খাবারের থালাও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here