ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মধ্যরাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ৩৩ ঘণ্টা না পেরোতেই ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০–১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে। পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত ১২টার দিকে দুই পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সংঘর্ষে জড়ায়। ওই সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই উত্তেজনার জের ধরেই পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইসমাইল মুন্সী (৬৫) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুল মিয়া (৪৫)। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এর জেরে রাত ১২টার দিকে উভয় পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টর্চলাইটের আলোয় প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। পরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ১০–১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর জের ধরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

