চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ার কারণে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে বিকল্প পথ না পেয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তাদের ধারণা, এই মূল্যবৃদ্ধি কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করা হয়েছে। দেশে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ দাম কমাতে তেমন কাজ করেনি।
এই অবস্থায় সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের চালানগুলো বিক্রির সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে জ্বালানির সংকটে থাকা মিত্র দেশগুলো এসব তেল কিনতে পারবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিও রয়েছে। কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে কিছু সুবিধাও দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান যে চাপ তৈরি করেছে, এটি তারই একটি প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২০১৮ সালে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর এসব নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হয়। এতে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে।
বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, তা মূলত যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য। তবে এই তেল বিক্রির অর্থ সরাসরি ইরানের কাছে যাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

