ইকোনমিস্টের ২৭% শেয়ার কিনলেন কানাডীয় ধনকুবের স্টিভেন স্মিথ

0
ইকোনমিস্টের ২৭% শেয়ার কিনলেন কানাডীয় ধনকুবের স্টিভেন স্মিথ

ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর ২৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছেন কানাডীয় বিলিনিয়ার স্টিভেন স্মিথ। এতদিন মালিকানার এ অংশটি লিন ফোরেস্টার দে রথসচাইল্ডের হাতে ছিল।

আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ইকোনমিস্টের ১৮৩ বছরের ইতিহাসে মূল মালিকানার কাঠামোতে তৃতীয়বারের মত বড় পরিবর্তনে এলো।

স্মিথ ও তার পারিবারিক হোল্ডিং কোম্পানি স্মিথ ফিনান্সিয়াল কর্প বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। এর মধ্যে প্রভাবশালী প্রক্সি অ্যাডভাইজরি গ্রুপ গ্লাস লুইসের যৌথ মালিকানাও রয়েছে।

ইকোনমিস্ট গ্রুপের (টিইজি) ২৬.৯ শতাংশ শেয়ার কিনতে স্মিথ ও তার কোম্পানির কত খরচ হচ্ছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

গত বছর জানা গিয়েছিল, লিন ফোরেস্টার দে রথসচাইল্ডের হাতে থাকা ইকোনমিস্ট গ্রুপের শেয়ারের দাম প্রায় ৫৩৭ মিলিয়ন ডলার (৪০২ মিলিয়ন পাউন্ড); ভোটাধিকারযুক্ত ২০ শতাংশ শেয়ারও যার মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বখ্যাত সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর পাশাপাশি ‘১৮৪৩ ম্যাগাজিন’ এবং ইকোনমিস্ট ‘ইনটেলিজেন্স ইউনিট’ রয়েছে টিইজির মালিকানায়।২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এ কোম্পানির বার্ষিক আয় ছিল ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড এবং মুনাফা ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড। এক বছরে ইকোনমিস্টের গ্রাহক সংখ্যা ৩ শতাংশ বেড়ে ১২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে।

ফোরেস্টার দে রথসচাইল্ড, তার পরিবার এবং তাদের ফাউন্ডেশন ২০০২ সাল থেকে টিইজির মালিকানায় ছিলেন। তিনি ইএল রথসচাইল্ড প্রাইভেট ফ্যামিলি অফিসের প্রধান নির্বাহী এবং ‘কাউন্সিল ফর ইনক্লুসিভ ক্যাপিটালিজম’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

গার্ডিয়ান লিখেছে, টিইজির শেয়ার বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে কোম্পানির চারজন স্বাধীন ট্রাস্টি এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। এই ট্রাস্টিরা ইকোনমিস্টের সম্পাদকীয় নীতি রক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন।

একজন মুখপাত্র বলেন, “এই বিনিয়োগ দ্য ইকোনমিস্টের দীর্ঘদিনের কঠোর সম্পাদকীয় স্বাধীনতার প্রতি মিস্টার স্মিথের পূর্ণ সমর্থনেরই প্রতিফলন। শেয়ার হস্তান্তরের ফলে কোম্পানির কৌশল ও কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

তিনি বলেন, “মি. স্মিথ একজন কানাডীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী, দেশের শীর্ষ আর্থিক সেবার কোম্পানিতে তার বড় অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, ইতিহাস ও শিল্পকলায় তার উল্লেখযোগ্য দাতব্য কার্যক্রম রয়েছে।”

স্মিথ ফিনান্সিয়াল কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, স্টিভেন স্মিথ এ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। তিনি ‘হিস্টোরিকা কানাডা’র চেয়ারম্যান, যা ‘দ্য কানাডিয়ান এনসাইক্লোপিডিয়া’ প্রকাশ করে।

পাশাপাশি তিনি রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামের অনারারি গভর্নর এবং গ্লাস লুইসের চেয়ারম্যান। ফোর্বসের হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটি ডলার।

গার্ডিয়ান লিখেছে, গত বছর রথসচাইল্ড পরিবার তাদের পুরো শেয়ার বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুরু করে এবং সেজন্য বিনিয়োগ ব্যাংক লাজার্ডকে দায়িত্ব দেয়।

ফিয়াটের উত্তরাধিকারী জন এলকান পরিচালিত বিনিয়োগ কোম্পানি এক্সর বর্তমানে ইকোনমিস্টের সবচেয়ে বড় একক শেয়ারহোল্ডার, তাদের হাতে রয়েছে ৪৩.৪ শতাংশ শেয়ার।

টিইজি নিজে প্রায় ৩০% শেয়ার ধারণ করে। অন্য শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ক্যাডবুরি ও শ্রোডার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

টিইজির মালিকানা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো একক শেয়ারহোল্ডার ২০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার ধারণ করতে পারে না।

এক্সর ২০০৯ সালে প্রথম টিইজিতে বিনিয়োগ করে। ২০১৫ সালে তারা ২৮৭ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে পিয়ারসনের হাতে থাকা শেয়ার কিনে নেয়। তাতে এক্সরের অংশীদারত্ব ৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩.৪ শতাংশ হয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস কেনার সময় পিয়ারসন ১৯৫৭ সালে টিইজির ওই শেয়ার কিনেছিল। পরে কিছু শেয়ার ১৮২ মিলিয়ন পাউন্ডে সরাসরি টিইজির কাছেই বিক্রি করে।

পিয়ারসন ২০১৫ সালে জাপানের মিডিয়া কোম্পানি নিক্কেইয়ের কাছে ৮৪৪ মিলিয়ন পাউন্ডে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বিক্রি করে দেয়। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here