সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান যুদ্ধে উত্তাপ আরও বাড়ছে। ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধের পরিধি। এরই মধ্যে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়িয়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায়। অঞ্চলজুড়ে একের পর এক তেল-গ্যাসক্ষেত্র হামলার শিকার হচ্ছে।
বুধবার ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রের একটি উৎপাদন স্থাপনাতে হামলা হয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র এবং ইরানের প্রধান জ্বালানি উৎস। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতিতে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই দায় স্বীকার করেনি। এ হামলার পর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে তেহরানের তেলের ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইনে জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে নিশানা বানাচ্ছে ইরান। ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করছে সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত কয়েকটি আরব ও ইসলামি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরামর্শমূলক বৈঠকের ফাঁকে অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন। এতে অংশ নেন পাকিস্তানের ইসহাক দার, তুরস্কের হাকান ফিদান এবং মিসরের বদর আবদেলাত্তি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ‘অঞ্চলে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়া ও যৌথ প্রচেষ্টা সমন্বয়ের গুরুত্ব’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কানাডার সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সৌদি বিশ্লেষক বলেন, সৌদি আরব যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয়, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হবে এবং দক্ষিণ এশীয় দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডরের ওপর নির্ভর করতে পারে রিয়াদ।
সৌদি ভূরাজনৈতিক গবেষক সালমান আল-আনসারি বলেন, “সৌদিরা যদি পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নেয়…তবে ইরানই সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আক্ষরিক অর্থেই বলা যায়, সৌদি আরবের ওপর একটি পারমাণবিক ছাতা রয়েছে।”
গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির কেন্দ্রে রয়েছে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো একটি নীতি, যেখানে যৌথ প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, “যেকোনও এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।” তাত্ত্বিকভাবে এর অর্থ, সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদি আক্রমণের মুখে পড়লে পাকিস্তান সহায়তা দিতে বাধ্য হতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

