ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র দেশের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে এক মারাত্মক ভুল করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বুধবার রাতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনাগুলোতে আইআরজিসি যে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। মুখপাত্রের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল শুরু এবং শত্রুর আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে শত্রু ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এমন ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে যা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত থামবে না। ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, ইরানের উদ্দেশ্য সংঘাত বাড়ানো বা প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনীতির ক্ষতি করা ছিল না। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার পর মার্কিন ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে যে উস্কানিমূলক যুদ্ধ শুরু করেছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রু পক্ষ ইরানের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আইআরজিসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদারদের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলে এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ক্রমাগত পাল্টা অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। মুখপাত্র আবারও নিশ্চিত করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আগের যেকোনো হামলার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কঠোর হবে।

