পরিবার-আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে যে কোনো উপায়ে হলেও বাড়ি ফিরতে হবে। এমনই পরিস্থিতিতে অনেককে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আবার অনেকেই কম ভাড়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেল এবং ট্রেনের ছাদে উঠে বাড়ি ফিরছেন।
তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে অনেকের, আবার বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কম ভাড়ায় মালবাহী ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।
টাঙ্গাইল থেকে বগুড়া যাবেন সাইদুল আলম। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবেন তিনি। কিন্তু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাসে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাসে উঠতে পারেননি তিনি। পরে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে ওঠেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময় বাসে সাড়ে তিন থেকে চারশ টাকায় তিনি বগুড়া যেতেন, সেখানে ঈদ উপলক্ষে খোলা ট্রাকেই তার কাছে ৫০০ টাকা ভাড়া নেয়া হয়েছে। যাত্রীবাহী কোনো বাসে উঠতে না পেরে বেশি টাকা দিয়ে হলেও বাড়ি যেতেই হবে। আমার মতো গরিব মানুষের ঈদের সময় বাড়ি যেতে ও আসতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু কিছুই করার নাই।’
নগরজালফৈ, রাবনা ও এলেঙ্গা ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার এসব এলাকায় ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে বাস বা গণপরিবহন পাচ্ছেন না। কারণ ঢাকা থেকে বাসগুলো যাত্রীদের চাপে ভর্তি হয়ে আসছে। লোকাল বাসগুলোও ঈদের এ সময় যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। আর এ সুযোগ নেয় অন্যান্য পরিবহনগুলো।
কুড়িগ্রাম থেকে টাঙ্গাইলে দিনমজুরের কাজ করতে এসেছিলেন আবদুল কুদ্দুস মিয়া, সে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছে। কিন্তু দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাসে উঠতে পারেননি। বাড়তি ভাড়ার কারণে বাসে উঠতে না পেরে এখন মালবাহী ট্রাক ও অন্যকোনো উপায় খুজছেন তিনি।
তার মতো অনেক মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই টাঙ্গাইল ও ঢাকা থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি ফিরছেন। ঈদ সালামি বা সংকটের কথা বলে তাদের ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে।
রাবনা বাই পাসে দাঁড়িয়ে থাকা লুৎফা বেগম, যাবেন নাটোর। তিনি বলেন, একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বাসে দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। আমাদের নারীদের জন্য আরো নিরাপত্তা প্রয়োজন। কিন্তু কার কাছে বললে ভাড়া কমানো যাবে ও আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে জানি না। প্রতি ঈদে একই অবস্থা হয়। কোনো প্রতিকার নাই!
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নাই। রাতে একাধিক গাড়ি সেতুর উপরে বিকল হয়েছিল। তখন একটু ধীর গতি ছিল। ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে ২ পাশে ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেলের জন্য পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

