গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে লক্ষ কণ্ঠে শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত পাঠ। পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম আবির্ভাব উৎসব ও মতুয়া ধর্ম মহামেলা উপলক্ষে গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মোৎসবে দেশ ও বিদেশে থেকে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ লাখ মতুয়া ভক্ত সমবেত হন। এবছর শ্রীধাম ওড়াকান্দির ভক্ত বিশ্রামস্থলের উদ্যোগে লক্ষ কণ্ঠে শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপকভাবে মাইকে প্রচার করে সবাইকে যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর রাত ১০টা ১ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে পবিত্র গ্রন্থ শ্রীশ্রীহরিলীলামৃত পাঠ শুরু হয়। শঙ্খধ্বনি ও হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ওড়াকান্দিসহ পুরো এলাকা। এসময় ভক্ত বিশ্রামস্থল এবং এর বাইরে শ্রীধামে ওড়াকান্দিতে অবস্থানরত সকল ভক্ত যার যায় জায়গায় দাঁড়িয়ে এই পবিত্র গন্থ পাঠ করেন।
সমবেত মতুয়ারা জানান, হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আত্মশুদ্ধি এবং বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনায় তারা এই সম্মিলিত পাঠে অংশ নিয়েছেন। প্রতি বছর তারা ওড়াকান্দিতে পূন্য স্নানে যোগ দেয়ার প্রতিক্ষায় থাকেন। এবার সেখানে লাখো কণ্ঠে শ্রীশ্রী হরি লীলামৃত পাঠ অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
ভক্ত বিশ্রামস্থলের উদ্যোক্তা গৌরাঙ্গ মন্ডল বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই গণ-পাঠ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ কণ্ঠে এই পাঠের মাধ্যমে মতুয়া দর্শনের ভ্রাতৃত্ববোধ ও অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার জন্য অনেক আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে শত শত পোষ্ট দেয়া হয়েছে।
লক্ষ কণ্ঠে শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত পাঠ অনুষ্ঠানের উদ্যোক্ত রতন মন্ডল বলেন, মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার কারণে আমরা অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা সবাই মনে করি মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি একটি ইতিহাস সৃষ্টি করলো এবং আমরা সবাই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম।
আগামীতে, ভক্ত বিশ্রামস্থলের উদ্যোগে এরকম আরো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ণ হবে বলে প্রত্যাশা সাধারণ ভক্তদের।

