ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ এমন এক বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করতে পারে, যা সংঘাতকে দীর্ঘ যুদ্ধে টেনে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং ইরান তুলনামূলক হিসাবি ও ধাপে ধাপে চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর রাজনৈতিক বিজ্ঞানী রবার্ট পেপ বলেন, এই যুদ্ধ এখন এমন এক ‘এস্কেলেশন ট্র্যাপ’ বা ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফাঁদে ঢুকে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন। তার মতে, যুদ্ধের শুরুতে খুব দ্রুত ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল করে দেওয়া যাবে; কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের সাফল্য আসবে বলে মনে করা হয়েছিল।
পেপ বলেন, প্রথম ধাপে মনে করা হয়েছিল কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দ্রুত দুর্বল করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তার ভাষায়, দ্বিতীয় ধাপে ইরান পাল্টা আঘাত হানে এবং নিজেদের অবস্থান দ্রুত মানিয়ে নেয়। তিনি বলেন, এখন তারা বোমা পড়ার আগের অবস্থা (যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থা) চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
পেপের মতে, এখন যুদ্ধ এমন এক তৃতীয় ধাপে ঢুকছে যেখানে সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেকেই হিসাব করছেন ইরানের কত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু এটিই যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র বোঝার সঠিক মাপকাঠি নয়। তার মতে, বড় প্রশ্ন হলো—দীর্ঘ সময় ধরে কে চাপ ধরে রাখতে পারবে।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী রবার্ট পেপ বলেন, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে সর্বশক্তি দিয়ে হামলা চালানোর পথ নেয়নি। বরং তারা একটি ‘স্মার্ট কৌশল’ গ্রহণ করেছে। তার ভাষায়, ‘আমি বলছি না তারা দশের মধ্যে দশ পেয়েছে। কিন্তু সাতের মধ্যে সাত বা দশের মধ্যে সাত—এমন একটি কৌশল তারা নিয়েছে।’
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলা। বিশ্লেষকের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে যুদ্ধ কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মার্কিন এই বিজ্ঞানী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ ধরে রাখা। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে—এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

